সংবাদ

তালাকে এগিয়ে নারীরা

লুবনা আহমেদ। চাকরি করেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। দুই বছর হলো বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সোহানকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস ভালোভাবে সংসার চলছিল। এর মধ্যে লুবনা আবিষ্কার করেন সোহানের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। সোহান প্রায়ই লুবনার মোবাইল ফোনের এসএমএস ও কললিস্ট চেক করে দেখেন। এমনকি লুবনার অনুপস্থিতিতে তার মোবাইলের ফেসবুকে ঢুকেও ইনবক্সে কী আছে তা পড়েন। লুবনা এগুলো লক্ষ্য করলেও অশান্তি এড়াতে এড়িয়ে গেছেন। এক সময় অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে লুবনার সম্পর্ক আছে— এ ধরনের অমূলক সন্দেহ শুরু করলে লুবনা তার প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে লুবনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন সোহান। লুবনা তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদের দিকে যান…

দশজনের মধ্যে নয়জনই!!

জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম কথা কিন্তু নাগরিকদের নিরাপত্তা। আবার নিরাপত্তা হলো নিরাপত্তার বোধ। বাংলাদেশে নাগরিকেরা নিজেদের অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকার চেয়েও বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন, বিদেশি গবেষণা সংস্থার সেই রিপোর্ট ধরে এই কলামে একটা লেখা লিখেছিলাম। তখনই প্রশ্নটা উঠল। পুলিশের কাছে গেলে প্রতিবিধান পাওয়া যাবে কি না, রাস্তায় রাতে চলতে ভয় লাগে কি না, আপনার বাড়িতে গত এক বছরে কোনো চুরিচামারি হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর যা পাওয়া গেছে, তা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষেরা অনেক উন্নত দেশের মানুষের চেয়ে নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মানুষ কি তঁাদের নিজেদের ঘরে নিরাপদ? আরও একটু নির্দিষ্ট করে বললে, বাংলাদেশের নারীরা…

ঢাকায় ঘণ্টায় এক তালাক

সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বনিবনা না হলে বিবাহিত নারী-পুরুষেরা আলাদা থাকছেন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানেরা। ঢাকা শহরে তালাকের আবেদন বাড়ছে। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। গত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তালাকের আবেদন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়-প্রায় ৭৫ শতাংশ। দক্ষিণ সিটিতে বেড়েছে ১৬ শতাংশ। দুই সিটিতে আপস হচ্ছে গড়ে ৫ শতাংশের কম। গত ছয় বছরে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অর্ধলাখের বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে। এ হিসাবে মাসে গড়ে ৭৩৬ টি, দিনে ২৪ টির বেশি এবং ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। তালাকের সবচেয়ে…

নারী ঘরেই বেশি নির্যাতিত

সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিস্ময়কর আরও তথ্য হচ্ছে, এসব নারীর ৭৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা বিগত এক বছরেও একই ধরনের নির্যাতন ভোগ করেছেন। বড় অংশের নারীকেই তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো…

বিচ্ছেদ বাড়ছে ভাঙছে সংসার

কেউ ভালোবেসে, কেউ পরিবারের সিদ্ধান্তে ঘর বাঁধেন। শুরু হয় একটি সুখী সংসারের ’পরশ পাথরের’ গল্প। ধন নয়, মান নয়, এইটুকু বাসা করেছিনু আশা। প্রথমদিকে দাম্পত্য জীবনে বোঝাপড়াটা হয়ে ওঠে ’সোনার হাতে সোনার কাকন কে কার অলংকারে’র মতো ধাধানো। কিন্তু বুকভরা আশা আর রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ঘর বাঁধলেও সর্বক্ষেত্রে ধরা দিচ্ছে না সুখপাখি। কখনো কখনো মেহেদীর রঙ মোছার আগেই ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সংসার। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সংসারের বন্ধন দুর্বল হচ্ছে ক্রমেই। যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভালো লাগা, ভালোবাসাও যাচ্ছে কমে। ফলে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। গত এক দশকে বদলে গেছে তালাকের ধরন। আগে ৭০ শতাংশ তালাকের ঘটনা ঘটতো স্বামী কর্তৃক। কিন্তু ’সংসার সুখের হয়…

যেসব পুরুষদের এড়িয়ে চলা উচিত

মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটা অন্যায় কিছু নয়। তবে জীবন চলার পথে মেয়েদের প্রতিটি পা ফেলতে হবে অত্যন্ত বুঝে শুনে। আমাদের সমাজটা এমন যে, কোনোভাবে মেয়েরা পা পিছলে গেলে তাকে নিয়ে টানা হিছড়া শুরু করেন। একই ক্ষেত্রে পুরুষরা ভুল করলে সেটা নিয়ে কোনো কথা হয় না। তাই জীবনে ভুল এড়িয়ে চলতে চাইলে পা ফেলতে হবে বুঝে শুনে। কারো সঙ্গে মিশতে হবে তাকে জেনে-শুনে। একটা ভুল সারা জীবনের কান্না হতে পারে সেটা মাথায় রেখে সব সময় এগুতে হবে। কোনো বিবাহিত পুরুষকে যদি আপনার প্রতি একটু বেশিই বন্ধুভাবাপন্ন মনে হয় তাহলে তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই ভবিষ্যতের জন্য ভালো। প্রায় সব নারীই বেশ…

‘না’ একটি চমৎকার শব্দ

কেউ বলছেন, নারীর পোশাকের স্বল্পতাই ধর্ষণের কারণ, কেউ বলছেন, পোশাকের আধিক্য নারীকে দুর্বলতর লিঙ্গে পরিণত করার মাধ্যমে ধর্ষণকে উৎসাহিত করে। ধর্ষণের কারণ সম্পর্কে যখন গবেষকরাও নিশ্চিত হতে পারছেন না, তখন আমরা হুটহাট নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছি। ওদিকে ধর্ষণের মাত্রা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ঘরের নিরাপত্তায় বসে কথা বলার মানুষের অভাব নেই, অথচ ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন তিন হাতের বেশি লম্বা হয় না। মাত্র কয়েকজন মানুষ হাত ধরাধরি করে পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, বাকিরা ব্যাঙ্গাত্মক হাসি হেসে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। ধর্ষণের কারণ নির্ধারণ অথবা এর প্রতিকার সাধন— কোনোটাই সহজ নয়। আসল কথা হলো নারীর গায়ে বাড়তি পোশাক চড়িয়েছে যে পুরুষতন্ত্র…